বুধবার, ১৭ Jun ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ন

ইউরোপে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিতে বড় ধরনের পতন

অনলাইন ডেস্ক, একুশের কণ্ঠ:: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে চলতি বছরে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি আয় কমেছে ৬৯ কোটি ইউরো।

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি ইউরো। ২০২৫ সালের একই সময়ে এই আয় ছিল ৩৫৭ কোটি ইউরো। ফলে এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি আয় কমেছে ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ।

শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই রপ্তানি কমেছে ১২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। ওই মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ১৪৫ কোটি ইউরো, যেখানে আগের বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছিল ১৬৬ কোটি ইউরো।

পরিসংখ্যান বলছে, ইইউভুক্ত দেশগুলো চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে মোট ১ হাজার ৩৮৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ কম। পরিমাণের দিক থেকেও আমদানি কমে ৬ দশমিক ২৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রপ্তানি কমার পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করেছে রপ্তানির পরিমাণ হ্রাস এবং পণ্যের গড় মূল্য কমে যাওয়া। এ সময়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির পরিমাণ কমেছে ১১ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং প্রতি কেজি পোশাকের গড় দাম কমেছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, ইইউ বাজার বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় অর্ধেক জোগান দেয়। তাই এই বাজারে দীর্ঘমেয়াদি পতন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে।

তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন বাণিজ্য বাধার কারণে চীন, ভারত, ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশগুলো ইউরোপীয় বাজারে অবস্থান শক্ত করছে। এতে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে।

এছাড়া ইউরোপে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, সুদের হার বৃদ্ধি এবং খুচরা বাজারে ধীরগতির কারণে পোশাকের চাহিদা কমে গেছে। ফলে ক্রেতারা এখন কম ও সতর্ক অর্ডার দিচ্ছেন এবং দাম কমানোর চাপ বাড়ছে।

ইউরোপীয় বাজারে চীন এখনো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে দেশটি ৪২০ কোটি ইউরোর পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ দশমিক ০১ শতাংশ কম। একই সময়ে তুরস্কের রপ্তানি কমেছে ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ। ভারত, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানিতেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, ইইউ বাজারে সামগ্রিকভাবে পোশাক আমদানিতে মন্দা চলছে, যার প্রভাব সব রপ্তানিকারক দেশের ওপর পড়েছে। তিনি বলেন, অনেক ক্রেতা আগেই চাহিদার পণ্য সংগ্রহ করায় ফেব্রুয়ারিতে রপ্তানি কিছুটা কমেছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে বাংলাদেশকে ডিরেক্ট টু কনজ্যুমার (ডিটুসি) পদ্ধতিতে অগ্রগতি করতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি বৈশ্বিক ক্রেতাদের কাছে পণ্য পৌঁছানো যায়। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সমস্যাগুলো সমাধানও জরুরি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com